Header Ads

Header ADS

ইবনে মুকাফ্ফা

ইবনে মুকাফ্ফা

ভূমিকা
আব্বাসীয় যুগকে আরবি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়! এ যুগে আরবি সাহিত্য বিশেষত আরবি গদ্য ব্যাপক উন্নতি করে! কবিতার পাশাপাশি গদ্য রচনা ও অনুবাদ সাহিত্যের প্রবণতা লক্ষ করা যায়! যা আরবি সাহিত্যকে সংবৃদ্ধ শালী করে তুলে!  আব্বাসীয় যুগে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক ও গ্রন্থকারদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মুকাফ্ফা একজন অন্যতম লেখক ছিলেন

জন্ম ও বংশ পরিচয়
আব্দুল্লাহ ইবনে মুকাফ্ফা 724 সালে এক পারসিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন!
তার আসল নাম ছিল রোজবা !
পরবর্তীতে তার নাম আব্দুল্লাহ রাখা হয় তার বাবা  দাজওয়াই একজন মাজুসি এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর অধীনে পারস্যের কর আদায়কারী ছিলেন! সরকারি রাজস্ব কর থেকে চুরির অপরাধে তাকে হাজ্জাজ প্রচুর প্রহার করেন! ফলে তার উভয় হাত কুঞ্চিত হয়ে যায়! তাই তিনি মুকাফ্ফা অর্থাৎ কুঞ্চিত ব্যক্তি নামে পরিচিত লাভ করেন!

শিক্ষা ও কর্মজীবন
আব্দুল্লাহ ইবনে মুকাফ্ফা উমাইয়া যুগের শেষকালে বাসরা শহরে বেড়ে ওঠেন! সেখানকার সাহিত্যিক ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছে শিক্ষা অর্জন করেন! বাসরার গভর্নর ইয়াজিদ বিন অমার তার প্রতিভা দেখে তাকে কাতেব অর্থাৎ সরকারি লেখক নিযুক্ত করেন!
আব্বাসীয় খলিফা মানসুরের কাকা ঈসা বিন আলী তাকে সরকারি  কাতেব অর্থাৎ লেখক নিযুক্ত করেন ! আব্দুল্লাহ বিন মুকাফ্ফা তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন!

হত্যা
ইবনে মুকাফ্ফা 759 খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা মানসুর বসরা শহরে হত্যা করেন! তার হত্যার কারণ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে! কারো মতে ধর্ম  ত্যাগের কারণে ও কারো মতে মানসুরের বিরুদ্ধে  কড়া  সন্ধি নামা লেখার কারণে তাকে হত্যা করা হয়!

গ্রন্থ সমূহ
আব্দুল্লাহ বিন মুকাফ্ফা প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেন! তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল!
যেমন
     1 কালিলা ওয়া দিমনা
     2 আল আদাব আল কাবির
     3 আল আদাব আসসাগির
     4 রেসালাত সাহাবা
     5 খোদায় নামা
     6 তাজ

সাহিত্যিক অবদান
আব্বাসীয় যুগের লেখকদের মূলত চার   শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়. প্রথম শ্রেণীর শীর্ষে রয়েছেন আব্দুল্লাহ  ইবনে মুকাফ্ফা.. তার হাত ধরে আরবি গদ্য প্রচুর উন্নতি লাভ করে. তিনি  ফরাসি ও ভারতীয় ভাষার বহু গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন. তিনি পারস্য ও ভারতীয় সভ্যতার পরিচিতি আরবি সাহিত্যে ঘটান তার লেখা মাহিবে كليله ودمنه একটি যুগান্তকারী সাহিত্য

সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
আব্দুল্লাহ বিন মুকাফ্ফা একজন গভীর জ্ঞানী  সুদক্ষ সাহিত্যিক ছিলেন. আর দর্শন, জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে. তার লেখার ধরন ছিল সহজ, সরল, বোধগম্য, প্রাকৃতিক, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয়. শব্দ চয়ন, অর্থের গভীরতা, বর্ণনার সৌন্দর্য যুক্তিতর্কের সংমিশ্রণ,  উক্তি ও দলিল সাপেক্ষে রচনা, গভীর জ্ঞান, দর্শন ও সংস্কৃতির বিচিত্রতা তার সাহিত্য কে উচ্চমানের সাহিত্যে পরিণত করেছে. তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে রাজনীতির আদর্শ , রাজা প্রজার সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য ও চেতনা, আদর্শ ও মূল্যবোধ, চরিত্র গঠন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ঘটনাবলীকে তুলে ধরেছেন. উদাহরণস্বরূপ তার বই কালিলা ও দিমনা জীবজন্তু ভাষায় রচিত, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, প্রজ্ঞা, দর্শন, জীবনচর্যা, আতিয়তা, বন্ধুত্ব, সততা, নেয়, নিষ্ঠা, উদারতা ইত্যাদি বিষয়গুলি খুব আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন.

উপসংহার
ইবনে মুকাফ্ফা এর গ্রন্থসমূহ আরবি সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ. তিনি আব্বাসীয় যুগের তথা সর্বকালের একজন সেরা লেখক ছিলেন. তার সাহিত্য, সামাজিক মহলে রাজনৈতিক চেতনা এনেছে. সে যুগের সমাজ ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থা তার সাহিত্যের মধ্যে ফুটে উঠেছে.

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.